Saturday, 25 March 2017

পানাগড়... তিন বছর

এক্সিস ব্যাংকের এটিএম'টা দেখেছিলাম আগেই, একবার দুর্গাপুর যাওয়ার সময়। রেশন দোকানের কাছেই। আমি আনতাম চিনি। দিদির হাতে কেরোসিনের জেরিক্যান। এক লিটারের, ডিলার যাতে ঠকাতে না পারে, মা বলে দিয়েছিল। আমি কিন্তু ঠকাতাম, মা'কে। এক মুঠো চিনি কম যেত বাড়িতে! সেদিন আমার স্কুল খুঁজছিলাম। গুগল ম্যাপস-এ। কেমন আছে আমার প্রথম স্কুল? তখনই সব উঠে এল...স্মৃতিগুলো। ম্যাপটাকে জুম্ ইন করলাম। ঐ তো! ছোট্ট দো'তলা স্কুল। সেইন্ট জুড'স স্কুল। মাঠটাও পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। প্রথম স্কুল স্পোর্টস। অঙ্কে ভালো ছিলাম বলে মা বলেছিল অঙ্ক রেসে নাম দিতে। অন্যরকম সাজার ইচ্ছে ছিল না বলে কোনদিন 'যেমন-খুশি-সাজো'তে নাম দিইনি। হুইসেল পড়ার সাথেই লম্বা ছুট। মাঝখানে রাখা অঙ্কের কাগজ। সাবট্রাকশন।ও মা! ওপরে ছোট সংখ্যা, নিচে বড়! আমি তো রেজাল্ট লিখেছি মাইনাসে। আবার এক ছুটে ওপারে। হল না। অঙ্কের ম্যাডাম বললেন আমার উচিত ছিল বড় সংখ্যা থেকে ছোটকে সাজিয়ে নিয়ে বিয়োগ করতে! আমার প্রথম অঙ্ক বিয়োগান্ত।


স্কুল থেকে ফেরাটা ছিল মজার অভিজ্ঞতা। খাঁচা গাড়িতে লাল মাটির মোরামের ওপর দিয়ে। এই রাস্তা নিশ্চয়ই এখন কালো। কারণ আমরা যেখানে থাকতাম তার অদূরেই দেখছি একটা কলেজ হয়েছে — আর্যভট্ট ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট। আমাদের বাড়িওয়ালার জমিতে। বাড়িওয়ালা বড় ভাল ছিলেন। আমার দৌরাত্ম সহ্য করেও কাকিমা আমাকে 'হরেকরকমবা' দেখতে দিতেন, টিভিতে। তখন শুধুই দূরদর্শন। ছোটদের অনুষ্ঠান হয়ে গেলে আমি দিদির সঙ্গে নিচে চলে আসতাম, পড়তে। আমাদের মতোই আরো এক ঘর ভাড়াটিয়া থাকত যাদের সঙ্গে আমার সখ্য ছিল দারুণ। মা যখন আমার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আমাকে খুব মারত, হ্যাপি-বুম্বার মা তখন ছুটে আসত! বাবা তখন অনেক দূর, নাগাল্যান্ড। মা-এর ওপর খুব চাপ। দিদি এটা বুঝতো, আমি ছিলাম অবুঝ!


ঐ বয়সটা বোঝারও না। খেলার। গ্রামে দাপিয়ে বেড়ানোর। ঢালাইয়ে। ঢালাইটা আবার কি? সে এক মজার জায়গা। বিস্তর এক প্রান্তর, পুরোটা কংক্রিটে বাঁধানো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি, সবাই বলত। প্লেন নামত। প্লেন নামা আমিও দেখেছি। এখনো নামে। পানাগড়ের সেনা ছাউনির জন্য রানওয়ে আছে। ঢালাই কিন্তু পরিত্যক্ত রানওয়ে — অনেকটা ঋত্বিক ঘটকের সুবর্ণরেখার দৃশ্যে যা দেখা যায়। ওটা অবশ্য কলাইকুণ্ডাতে শ্যুটিং। ঢালাই ছিল আমাদের গ্রামের ছেলেপিলেদের প্রাণ। ওখানেই ক্রিকেট খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো শেখা, শ্যুটিং রেঞ্জ-এর পিছনে লুকোচুরি, ছুটতে গিয়ে হাঁটু রক্তারক্তি... একদিন খবর এল প্লেন নামবে, রাজীব গান্ধীর প্লেন। তিনি তখন প্রধানমন্ত্রী। যাবেন শান্তিনিকেতন, সমাবর্তনে। তখন কি আর জানতাম এরকম সমাবর্তনে আমিও একদিন সপ্তপর্ণী পাব জওহর বেদিতে — তাও একবার না, দু'দু'বার!



সে প্লেন নামলো। সকলের সঙ্গে আমিও হাজির রাজীব দর্শনে। বছরখানেক আগেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে প্রাণ গিয়েছে ইন্দিরার। তাই আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা। প্রথমে নামলো বেশ কিছু সাদা অ্যাম্বাসেডর, প্লেনের পেট থেকে! তারপর রাজীব-সোনিয়া। কত শত লোক। কিন্তু রাজীব গান্ধী ছিলেন জনতার প্রধানমন্ত্রী। সবার সঙ্গে হাত মেলাতে মেলাতে চললেন শান্তিনিকেতনের উদ্দেশে। আমরা ছোটরা পেলাম ক্যাডবেরি এক্লায়র্স — মুঠো-মুঠো! অভাবনীয় তখন... ছোট্ট গ্রামে আমরা মর্টন লজেন্স পাই শুধু! ভাগ্য ভালো থাকলে একটা দোকানে কখনো-সখনো পাওয়া যেত আমূল মিল্ক চকোলেট — সেটাও তখন সদ্য এসেছে মধ্যবিত্তের বাজারে। পকেট ভর্তি করে এক্লায়র্স নিয়ে এসে কদিন চলল খুব লজেন্স খাওয়া!


আরেকটা বিমানের কথা কিছুতেই ভুলতে পারিনা। ছোটবেলাতে যেমন হয় বিভিন্ন রকম শখ, আমারও ছিল হরেকরকম। তার মধ্যে অন্যতম দেশলাই-এর প্যাকেট জমানো। একদিন পল্টুমামা, যে আমাদের বাড়ির সবার সঙ্গেই ভাব জমিয়ে বেশ নিজেদের লোক হয়ে গেছিল, সে এসে খবর দিল একটা দেশলাই-ভর্তি লরি উল্টে গেছে জি টি রোডে। এই রাস্তাই এখনকার সোনালী চতুর্ভুজের পূর্বসূরি। আমি তো শুনেই দৌড় ! জানতাম বাড়ি ফিরে মার খাব মা-এর  কাছে। কিন্তু আগে তো দেখতে হবে দেশলাই-এর প্যাকেট গুলো। রাস্তায় অনেক লোকের ভিড়। হতাহত কেউ নেই। শুধু রাস্তার একদিকে লক্ষাধিক দেশলাই-এর বাক্স। ওপরে লেখা বিমান, একটা প্লেনের ছবি আঁকা। সবাই দেখছি কুড়োতে লেগে গেছে পুলিশ তখনও আসেনি তাই! আমিও একটা প্যাকেট তুলে নিলুম। আমার সংগ্রহের জন্য। কিন্তু মজাটা অন্য জায়গাতে। পরের তিন-চার মাস যে দোকানেই দেশলাই কিনতে যেতাম, সেখানে ল্যাম্প-শিপ-ক্যান্ডল এসব না দিয়ে শুধুই বিমান দিত!


দেশলাই-এর প্যাকেট ছাড়াও আমার আরেকটা জমানোর শখ ছিল মার্বেল গুলি। তখন ১০ পয়সাতে ১০টা গুলি পাওয়া যেত। মাঝে-মাঝেই আমি ১০ পয়সার শোনপাপড়ি বা দানাদার না খেয়ে ১০টা রংবেরঙের গুলি কিনে আনতাম। এমনকি দানবাবার মেলাতেও খেলনা গাড়ির সঙ্গে গুলি কিনতাম! ফ্যারেক্স-এর এক কৌটো গুলি হয়ে গেছিল আমার। এরকম আরেক কৌটো হয়েছিল কাঁইবিচি — তেঁতুলের বিচি। সব একদিন চলে গেল। বাবা জানতে পেরে গেছিল। বছর তিনেক পানাগড়ে কাটানোর পর যখন বারাসত ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তখন বাসাবদলের প্রথম বলি হল আমার কৌটো দু'টো! খাট-টেবিল-বইপত্রের ম্যাটাডোরে ঠাঁই পায়নি আমার অনেক বছরের জমানো আনন্দমেলা, আর কিছু চাঁদমামা, কিছু অরণ্যদেব, কিছু বিক্রম-বেতাল।এদের সংখ্যা কম ছিল, কিন্তু আনন্দমেলা ছিল থরে-থরে সাজানো — তিব্বতে টিনটিন, লোহিত সাগরের হাঙর আর অজস্র গাবলু হাত পরিবর্তন হয়ে ঠোঙা হয়ে গেল। আর কারো জীবনে যেন এরকম কালো দিন না আসে — বাবা-মা-এর বদলির চাকরি কেন ছোটবেলার অভিশাপ হবে?


পানাগড় গ্রামের পর আমাদের পরের পর্ব কেটেছিল কাঁকসাতে, ২-৩ কিলোমিটার দূরে। এই বাড়ি তখন সবে হয়েছে। প্রাথমিক স্কুল-শিক্ষক হারু মাস্টার — সকলেই তাঁকে এই নামেই ডাকত আর তাঁর আসল নাম জানাই হয়নি কোনদিন — সবে তাঁর বাড়ি করেছেন কাঁকসাতে। আমরা যখন সেখানে ভাড়াটিয়া হয়ে যাই, তখনও কাজ অর্ধসমাপ্ত। মনে পড়ে, তখন শীতকাল। ছাদে ওঠার সিঁড়ি সবে ঢালাই হয়েছে। হারু মাস্টার সন্ধ্যে বেলাতে ৪-৫ ডিগ্রী ঠান্ডাতেও এসে জল দিত সেই শীতে। মুখ থেকে আওয়াজ বেরোচ্ছে — হু হু। আমরা জিজ্ঞেস করতাম কেন এতো কষ্ট করছ? উত্তর আসত, নিজের বাড়ি না হলে বুঝবে না গো তোমরা। বুঝেছিলাম এসব অনেক পরে। জানিনা এখন আর হারু মাস্টার বেঁচে আছেন কিনা। ওনার বাড়িতে আমাদের খুব স্বাধীনতা ছিল কারণ বাড়িওয়ালা থাকতেন না ওই বাড়িতে ! ভাড়াবাড়িতে যদি বাড়িওয়ালা না থাকেন, তার মজাই আলাদা! সে যে না থেকেছে সে জানবেও না!!


হারু মাস্টারের বাড়িতে আমাদের সঙ্গে আরেকটা ঘরে থাকতেন মা-এর দুই সহকর্মী — তপু মাসি আর শিখা মাসি। দুজনেই মা-এর থেকে ছোট। এঁরা দুজনই ছিলেন অবিবাহিত, আমৃত্যু। আমার বড় হওয়াতে এঁদের ভূমিকা ছিল অন্যরকম। একদিকে যেমন গিলি 'ডোরাকাটা জামা', অন্যদিকে 'দেখি নাই ফিরে'তে চোখ বোলাই। আমাদের ঘরে আনন্দমেলা, আর পাশের ঘরে দেশ। হয়তো বুঝি না সব, কিন্তু অবচেতনে তৈরি হয় ভালো লাগা, বিকাশ ভট্টাচার্য থেকে রামকিঙ্কর, সমরেশ বসুর হাত ধরে — ভাবাই যায় না! পরে যখন শান্তিনিকেতন যাই পড়াশুনো করতে, প্রথম যে বাড়িটা দেখতে যাই তা হল রামকিঙ্করের কোয়ার্টার। ভগ্নদশা, ভগ্ননীড় বিশ্ব-ভারতীতে। আবিষ্কার করি বলাকা-বিভাস, বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়ি। জানতামই না হয়তো এঁদের কথা যদি না ছোট থেকে দেশ-এর সঙ্গে পরিচয় হত। তপু মাসির কথা লিখেছিলাম অনেকদিন আগে আমার ব্লগ-এ। তখন তপু মাসি শেষশয্যায়, লড়াই করছে ক্যান্সারের সঙ্গে। শেষ দেখা। আর শিখা মাসির সঙ্গেও তাই। একটা লড়াই শেষে যখন অফিসে ফিরলেন, তখন আবার ক্যান্সারের প্রকোপে শেষ নিঃশ্বাস। ৩০ বছর আগের দিনগুলো ছিল না এমন। 'ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে' 'জীবনখাতার প্রতিপাতায়' জারি ছিল হিসাব-নিকাশ। পত্রিকার সঙ্গে আমরা আদান-প্রদান করতাম মান্না-হেমন্ত-শ্যামল, লতা-আশা- ফিরোজা বেগম।


দেশ-এর পাতা ছাড়া আরও একটা জায়গাতে ছিল আমার অবাধ স্বাধীনতা। মা-এর অফিস। লক্ষ্মী ভবন, জি টি রোডের ধারে। দিদির তখন স্কুল থাকত সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত। আমার সকালের স্কুল শেষে মা অনেকদিনই আমাকে নিয়ে চলে যেত অফিসে। সেখানে সারাদিন কাটিয়ে বাড়ি ফেরত। রোববারের সকাল ছিল রামায়ণ-ময়। তার রেশ চলত পুরো সপ্তাহ।এমনকি স্কুলের পাশের দোকানে পোস্টার পাওয়া যেত রাম-সীতা-হনুমান রূপী অরুন গভীল-দীপিকা চিখালিয়া-দারা সিংহের! কার বাড়িতে কত এরকম পোস্টার আছে তাই নিয়ে কাড়াকাড়ি! আজকের দিনে হরেক চ্যানেল আর সিরিয়াল-এর মধ্যে এসব ভাবাই যাবে না।জীবনটা অন্যরকম ছিল — আল ধরে ঘুরে বেড়ানো, দামোদরের ক্যানেল পার দিয়ে সকালে দৌড়নো, এক পাড়া থেকে অন্য পাড়াতে খেলতে যাওয়া এমনকি ২ টাকার টিকেট কেটে ভিডিও হলে 'ডিস্কো ডান্সার' বা 'গুরুদক্ষিণা' দেখা! পানাগড়ের একমাত্র সিনেমা হল কবিতাতে কখনো মা নিয়ে যেত 'রাজা হরিশ্চন্দ্র' বা শমিত ভঞ্জের বাংলা রামায়ণ দেখাতে। কিন্তু আমার আর দিদির বেশি পছন্দ ছিল ২ টাকায় 'মিলন তিথি' দেখার, পাড়ার সবাই মিলে, হাত-পা ছড়িয়ে! 


এর পাশাপাশি শুরু হয়েছিল আমার তবলা শেখা। পাণ্ডে স্যার ছিলেন খুব কড়া। আমার মত বিচ্ছু একমাত্র পান্ডে স্যারকেই ভয় পেত। আমি দিদির সোমনাথদার গানের ক্লাসে সঙ্গত দিতাম তবলাতে। অনেক পরে যখন স্কুলে তবলাতে সর্বোচ্চ নম্বর আর বৃত্তি পেতাম, মনে পড়তো ছোটবেলাতে পান্ডে স্যারের টোকা — আঙুলের গাঁটে! পান্ডে স্যারকে কোনদিন আর বৃত্তির কথা বলাই হয়নি। যেমন বলা হয়নি বলাইমামাকে। ২০০৮ সালে একবার বলাইমামার সাইকেলের দোকানের সামনে গিয়ে ছোট বলগুলো খোঁজার কথা। ১৯৮৮-তে পেলে এখন কেন পাব না? শুনেছিলাম, বলাইমামার দোকান কবেই উঠে গেছে! অনেক কিছু উঠে গেলেও স্টেশন রোডের আশুতোষ মিষ্টান্ন ভান্ডার এখনও আছে। ওরা আপেল সন্দেশ করে নিশ্চয়ই আজও, না হলে আমার মত ভাইরা কি খাবে ভাইফোঁটার দিন?


বাবা যখন ছুটিতে বাড়ি আসত, তখন ছিল আমার নাওয়া-খাওয়া ভুলে পড়াশুনো করার সময়। বছরের বাকি সময়টা শুধুই খেলা আর বাবার শেষ করিয়ে যাওয়া পাঠক্রম ঝালাই দেওয়া। তবে বাবার কাছে বায়না যে করতাম না তা নয়, কিন্তু বাবা সবকিছু মোটেও মেনে নিত না। এরও ব্যতিক্রম ছিল। সেবার বাবা এসেছে নাগাল্যান্ড থেকে। গরমকাল। আমি আর দিদি বিকেলে বায়না ধরলাম গোল্ড স্পট খাব। বাবা আমাকে উপেক্ষা করতে পারলেও দিদিকে পারত না। নাছোড়বান্দা আমাদের দু'জনকে বাবা নিয়ে গেল দার্জিলিং মোড়ে যেখানে জি টি রোড থেকে গাড়িগুলো চলে যেত উত্তরবঙ্গের দিকে। 


দার্জিলিং মোড়ের দোকানে পাওয়া যেত গোল্ড স্পট। অনেকদিন পরে, প্রায় বছর ২৫ তো হবেই, একদিন আবার দাঁড়ালাম ওখানে। গোল্ড স্পট এখন আর নেই। মিরিন্ডা এসে গেছে। ছোটবেলাতে চাকা না, আমার ভালো লাগত লরিগুলোর ড্রাইভ শ্যাফট দেখা। সেটাও আর দেখতে পেলাম না। বুঝলাম, অনেকটা বড় হয়ে গেছি। ছোটবেলাটা রেখে এসেছি মোরামের রাস্তায় আর আলের ধারে। 

Sunday, 9 October 2016

শিউলি, শিবানন্দ মঠ আর শেঠপুকুরের পুজো

—  দেখি কতটা হলো?
—  অনেক, দাদু। দিদির থেকে বেশি, টুম্পাদির থেকেও বেশি।
—  শুঁয়োপোকা উঠেছিল হাতে?
—  না। তবে কয়েকটা আমি মেরেছি পা দিয়ে।

আমাদের শেঠপুকুরের বাড়িতে একটা বড় গাছ ছিল শিউলি ফুলের। পুজোর আগে দুর্গাপুর থেকে এসে আমার প্রথমেই মনে হত শুঁয়োপোকাগুলো কি শিউলি ফুল খেয়ে ফেলেছে? আমি কি কাল সকালে ফুল কুড়োতে পারব না? সকাল হলেই আমার সব উৎকণ্ঠার অবসান। দাদুর পুজোর ঝুড়ি ভরে গেল শিউলিতে। এরপর আমরা চারজন — দাদু, দিদি, টুম্পাদি আর আমি — একসাথে শিবানন্দ মঠে টুকটুক করে হেঁটে। ১০০ মিটার পথ তখন আমার মনে হত কত্তটা!

শিবানন্দ মঠে আমরা প্রতিদিনই যেতাম কিন্তু পুজোর দিনগুলো ছিল অন্যরকম। অনেক মানুষ, ত্রিপল আর শামিয়ানা ঘেরা লন... আমার বসার জায়গাটাও বেদখল। ছোটদের একটা অধিকারবোধ থাকে সব কিছুর ওপর। আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। সন্ধ্যাবেলা আরতির সময় যখন "খণ্ডন ভব বন্ধন" হত — যা আমি তখন কিছুই বুঝতাম না — তখন আমি চুপ করে বসে থাকতাম পেছনের দিকে কার্পেটের এক কোণে। কিন্তু পুজোর দিনগুলোতে সেই কোণ তখন জবরদখল। সবচেয়ে বেশি ভিড় হত অষ্টমীর দিন, সকালের কুমারী পুজোতে। অত ভিড় ভালো লাগতো না কিন্তু বাড়ির সবাই ওখানে আর আমি একা কি করব!

ডাকের সাজের সাথে আমার প্রথম পরিচয় শেঠপুকুরের পার্কের পুজোতে। এখন যেখানে বারাসতে নতুন রবীন্দ্র ভবন হয়েছে, সেখানেই পুজো হত সাউথ শেঠপুকুর সার্বজনীনের। সকাল যদি কাটে মঠে তবে দুপুর থেকে পার্কের পুজো। একদম আমাদের বাড়ির উল্টোদিকে হওয়াতে আমার আনন্দ বড্ড বেশি। মন খারাপ হয়ে যেত একটাই কারণে — মা দুর্গার মুখটা আমাদের বাড়ি থেকে দেখা যেত না। জানলা থেকে আমি শুধু কার্তিক দেখতে পেতাম। এমনটা হত প্রতিবছর। এখন শুনেছি এই পুজোর বহর কমে গেছে। প্রতিপত্তি বেড়েছে পাশের মাঠের পুজো — শেঠপুকুর অ্যাথলেটিক্স ক্লাব। কোথাও যেন একটা ছদ্ম প্রতিযোগিতা থাকতো এই দুই পুজোর। তখন কেউ তো আর প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় ট্রফি দিত না!

এরকমই একবার পুজোর কথা।
১৯৮৯।
শিউলি ফুল পড়ে আছে অজস্র, কেউ তুলছে না। আমাকেও বারণ করা।
ষষ্ঠীর দিন সকালে মা বলল কুড়িয়ে আনতে। শুধু সেদিন আর মঠে গেলাম না।
দাদুর ছবির সামনে রাখলাম এক ঝুড়ি। দাদুর শ্রাদ্ধ সেদিন। ২৪-শে সেপ্টেম্বর দাদু চলে গেল যখন চিরকালের মত, শিউলিগুলো তখনও ঝরে পড়ছে টুপটাপ।
শুধু আমার আর কোনদিন শিউলি ফুল নিয়ে মঠে যাওয়া হল না। 

Wednesday, 15 April 2015

পাঠকের খোঁজ


ছবিটা তুলে ফেললাম সেদিন কলকাতা মেট্রোতে। সাধারণ ছবি। প্রতিদিনের দৃশ্য — অসাধারণ কিছু মুহূর্ত নয়। আমার তিনজন সহযাত্রী চলেছেন যে যার গন্তব্যে। একজন মধ্যবয়সী এবং অন্য দুজন আমার বয়সী বা হয়ত একটু ছোট। প্রায় আধঘন্টা আমি এদের লক্ষ্য রাখছিলাম। মধ্যবয়সী মানুষটি বিভিন্ন রকমের চিন্তায় নিমগ্ন, মাঝে একটা স্টেশনে কাউকে ফোন করলেন। চিন্তিত।

একদম বাঁ-পাশের লোকটির চোখ সরল না মোবাইলের পর্দা থেকে। দরজার পাশে বসা ছেলেটি অসম্ভব মনোযোগ দিয়ে পড়ে চলেছে সকালের আনন্দবাজার। প্রথমে সে পড়ল খেলার পাতা। তারপর কমবয়সী বাঙালির মত ফিরে এলো প্রথম পাতার দিকে। পাঠক ক্রমাগত শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে আমরা যারা খবরের কাগজে কাজ করি তাদের সবসময় একটা চিন্তা কাজ করে। শুধুমাত্র খবরের কাগজ কেন, যে কোনো মিডিয়াতে এই ভয়টা থাকেই। টিভি মিডিয়ার চিন্তা দর্শক নিয়ে। সেখানে যে যত তাড়াতাড়ি দর্শকের মন জয় করে সবচেয়ে বেশি সময় তাকে ধরে রাখতে পারবে — তারই জিত।

আবার কখনো মনে হয় আমরা মোবাইল-মদ্যপদের কাছে হেরে যাচ্ছি না তো? এমনিতেই শোনা যায় এবং নিজেও উপলব্ধি করি মানুষ নিজেকে ধীরে-ধীরে বই-বিমুখ করে তুলছে। একসময় আমিও বই পড়তে-পড়তে অফিস আসতাম। এখন আসি মোবাইলে ই-বুক পড়তে-পড়তে।  মনে করুন, যারা ই-বুক-ও পড়েন না! পাঠক এখন খেলোয়াড় — মুঠি-ফোনে এন্তার গোল করে মেসিকে কাটিয়ে, উইকেট ভাঙে মালিঙ্গার ছন্দে, হ্যামিলটনকে হারায় ফর্মুলা-১ এ! 

এই ছবিটাতেও লক্ষ্য করুন, প্রথম লোকটি মোটেও ই-বুক পড়ছেন না। কানে নল গোঁজা ব্যাপারটা আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি ডাক্তারদের মধ্যে। কিন্তু সেটা রোগী-ডাক্তার সম্পর্ক। একটা প্রানের সম্পর্ক। এখন, মোবাইলের সঙ্গে নল গুঁজলে ছায়াছবি দেখা যায়, গান শোনা যায় আর গেমস্ খেলা যায়। এটা ভালো। কিন্তু পাঠক কই? 

এখন অবশ্য আরো একটা নতুন মিডিয়া এসেছে — অডিও-বুক। জানতে ইচ্ছে করছিল ছেলেটি অডিও-বুক পড়ছিল কিনা। দরকার হলো না। দুই হাত দিয়ে কেউ অডিও-বুক পড়ে না! পড়াশুনা ব্যাপারটা যে উধাও হয়ে যেতে বসেছে তা অনেকেই বিশ্বাস করে না। আজকাল আমরা খবর পড়ি না, দেখি। ব্যোমকেশ পড়ি না, দেখি। বই পড়ি না, দেখি। 

অবশ্য বই দেখার অভ্যাস বাঙালির অনেক আগেই  ছিল... আমার জন্মের অনেক আগে থেকেই। তখন উপন্যাস বা গল্প যা আগে বই হয়ে প্রকাশিত হত, তা চলচ্চিত্র পরিচালকরা ফুটিয়ে তুলতেন পর্দায় — যা হত বই দেখা। যেমন হয়েছিল পথের পাঁচালি বা পদ্মা নদীর মাঝির ক্ষেত্রে। বা, হয়ত অগুনতি সাহিত্য টেক্সটে। 

ছবিটা তোলা ১৪২১ বর্ষশেষের দিন দুপুরে। ক'বছর আগেও কলেজ স্ট্রিট বই পাড়াতে চৈত্র-শেষের দুপুরে সাজ-সাজ রব পড়ে যেত। পরদিন জমাটি আড্ডা হবে লেখকদের নিয়ে। এখন আড্ডা হলেও কবিতা-পাঠে সময় নষ্ট না করে অনেকেই দ্রুত পায়ে চেক নিয়ে হাঁটা মারেন বাড়ির পথে। সান্ত্বনা শুধু ওই ছেলেটা — মেট্রোতেও আনন্দবাজার পড়ে!

Saturday, 2 August 2014

বেতার যাত্রা

কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। সদ্য স্নাতকোত্তর শেষে তখন আমি বেকার। এরকমই এক বর্ষার দুপুরে খবর পেলাম আকাশবাণী-শান্তিনিকেতনে ঘোষক নেওয়া হবে। ভাবলাম নাটক তো অনেক করেছি এক সময় — গলার কারিকুরিতে নাট্যঘরের শেষ দর্শককেও শোনাতে পারতাম। আবার, ছাত্র ভোটের সময় মিছিলের পুরোভাগে স্লোগানও দিতাম। এইসব জানত শান্তিনিকেতনে আমার অনেক বন্ধু-ই। ওরাই আমাকে উত্সাহ যোগাল অডিশন দিতে যেতে। গেলুম চলে।

একটা বড় ঘর। কাঁচ ঢাকা। একটা মাইক। একটা কন্ঠস্বর। নাম জানতে চাইল। বললাম। একটা সাদা কাগজ রাখা। বলল পড়তে। বিভিন্ন রকমের শব্দ আর বাক্যমালা।  শেষে এলো সেই কঠিন পরীক্ষা। কবিতা আবৃত্তি। এ এমন এক কলা যা আমি আয়ত্তে আনতে পারিনি কোনদিন। অষ্টম ক্লাসের মৌখিক পরীক্ষা। বেনুদা বললেন ''উলঙ্গ রাজা' বলবে, না আমি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করব'? এমন সুযোগ কেউ কি ছাড়ে? আমি বললাম প্রশ্নই করুন। দশের মধ্যে আট পেলুম। আনন্দ। না হলে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে হত 'রাজা তোর কাপড় কোথায়'? বেঁচে গেলাম সেবার। 

কিন্তু এই কাঁচের ঘরে বাঁচাবে কে? কাউকে দেখা যায়ে না। এরপর সেই বিনীত অনুরোধ। 'কোনো কবিতাই আমার মুখস্থ নয়। আমি কি গদ্যাংশ পড়তে পারি কিছু?' এলো। একজন এসে এক পৃষ্ঠা রবীন্দ্রনাথ দিয়ে গেলেন। কোনো কথা নেই তাঁর মুখে। মিলিয়ে গেলেন কাঁচের ওপারে। আবার ভেসে এলো সেই আওয়াজ। 'পড়ুন'। পড়লাম। বেরিয়ে আসুন। হয়ে গেল? আরো দেখলাম অনেক চেনা-অচেনা মুখ বসে আছেন বাইরে। অডিশন-এর জন্য। তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সোজা গুরুপল্লিতে আমার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িতে। 

ভুলেই গেছিলাম আকাশবাণীর কথা। একদিন সন্ধ্যাতে আড্ডা চলছে সুবোধ'দার চা-এর দোকানে। অমর্ত্য'দা এসে বলল, 'অনেক তো কিপ্টেমি করেছিস। এবার তো খাওয়া।' অমর্ত্য'দার সঙ্গে অনেক নাটক করেছি এক সময়। আমাদের নাটক এর নির্দেশক ছিল ও। এখন সঙ্গীত ভবনের নাটক বিভাগের অধ্যাপক। আমি বললাম আবার কিসের খাওয়া? 'রেডিও রেডিও...।' বুঝলাম। এরপর অমর্ত্য'দাকে নিয়ে সাইকেলে আকাশবাণী। কাগজপত্রে সই-সাবুদ করে জেনে নিলাম কবে শুরু হবে বেতার যাত্রা। 

এরপর চলল দেবাশিস বসুর সঙ্গে একপক্ষ-কাল ব্যাপী শিক্ষানবিশি। কিভাবে কথা বলতে হবে। স্বর কিভাবে সঞ্চালন করতে হয়। কিছু কৌশল নাটক করার কারণে জানতাম। তবে মঞ্চের মাইক আর স্টুডিও-এর মাইক — অনেক আলাদা। জোরে কথার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এরসঙ্গে চলল রেডিও কনসোল কি করে সামলাতে হয় তার-ও তালিম। একদিন দেখলাম আমাকে একসাথে সিডি, ক্যাসেট আর স্পুল চালাতে হচ্ছে! কালক্রমে এটাই হয়ে গেল অভ্যাস। 

লাইভ অনুষ্ঠান দিয়ে পুজোর ঠিক আগে শুরু হলো আমার বেতার যাত্রা। অনেকদিন পর সেদিন (৩০ জুলাই, ২০১৪) আবার গেলাম আরেকটা বেতার স্টুডিওতে। মাঝে কেটে গেছে দশটা বছর। আমিও এখন বেতার জগত্ ছেড়ে অন্য কাজ করি। কিন্তু বেতার এর রোমাঞ্চটা থেকেই গেছে কোথাও একটা! 

Sunday, 3 November 2013

Bangla revolution

অনেক দিন ভেবেছি বাংলা তে ব্লগ লিখলে কেমন হয়? মাঝে মাঝে তো লেখাই যায়!

একটা সময় এসেছিল যখন বাংলা ব্লগ জনপ্রিয় করার জন্য বেশ কিছু নতুন ওয়েবসাইট করা হয়েছিল। সে অবশ্য এক যুগ আগের কথা। সেবার বইমেলা তে (তখনও বইমেলা হত পার্ক স্ট্রিটের পাশের ময়দানে) একটা দোকান দিয়েছিল এরকম উঠতি ওয়েবসাইট। দোকানে খুব ভীড় দেখে উঁকি মারলুম।  বলে কিনা নতুন এক সফটওয়্যার এসেছে। তাতেই নাকি বাংলা তে সব লেখা যাবে। আমরা তখন সবে ইউনিভার্সিটি ছেড়েছি। আমার উত্সাহের কারণ ছিল অবশ্য অন্য। এক সময় এত কষ্ট করে ২০ পাতা বাংলা তে লিখে ছাপাতে হত!

আমাদের ইংরেজি বিভাগে একটা পত্রিকা বের করতুম আমরা। আমি যখন প্রথম সেই বিভাগে ভর্তি হই, তখন দেখি সেটা বেশ চলছে, কিন্তু সব টাই হাতে লেখা। যিনি লেখেন তার হস্তাক্ষর খুবই ভালো। কিন্তু কালক্রমে তিনি বিভাগ থেকে চলে যান স্নাতকোত্তর পাস করে। এবং, সে ভার এসে চাপে আমার ঘাড়ে! কোন এক সিনিয়র দাদা, বা দিদি, ভেবেছিল আমার হাতের লেখা ভালো। আসলে লেখার হাত আর হাতের লেখার মধ্যে তফাত বিস্তর। সে কে কাকে বোঝায়, বিশেষত কাউকে তো পাওয়া গেছে বোঝা ঝেড়ে ফেলার জন্য!

তো, আমি খুব উত্সাহে লেগে পরলুম সেই পত্রিকার পেছনে। কাজ না থাকলে যা হয় আর কি! সকালে ক্লাস, দুপুরে পত্রিকার কাজ। কিন্তু আমার পক্ষে তো হাতে লেখা সম্ভব-ই না। এই দুরূহ কাজ করার জন্য আমার দুটো রাস্তা ছিল। এক, সুন্দর হস্তাক্ষর এর কাউকে খুঁজে বের করা। দুই, কম্পিউটার ব্যবহার করা। এইটা যে সময় এর কথা তখন গোটা শান্তিনিকেতনে কম্পিউটার হাতে গোনা কয়েকটা। মনে করুন কাউকে আপনি একটা পাতা টাইপ করে দিতে বললেন, তিনি নিদেন পক্ষে দুদিন নিতেন ঐটা করার জন্য। এরকম ভাবার কোনো কারণ নেই যে তিনি ওটা বিনা পয়সা তে করে দিতেন! যাই হোক, আমাদের তো রেস্ত এমনিতেই খুব কম। পয়সা দেবই বা কোত্থেকে। তাই অন্য ভাবনা শুরু করতেই হল। 

আমাদের কাছে কম্পিউটার ছিল মাত্র একটা। সেটাও বিভাগীয় কাজে প্রয়োজন হয়। আমাদের উত্সাহের বহর দেখে বিভাগীয় প্রধান শুক্লা-দি বললেন সেটি ব্যবহার করা যাবে। অনুমতি তো পাওয়া গেল, কিন্তু বাংলা সফটওয়্যার? এখানে প্রশ্ন জাগতেই পারে ইংরেজি বিভাগে বাংলা পত্রিকার কি দরকার? আবশ্যিক নিশ্চয়ই নয়। আমাদের পত্রিকাটি ছিল দ্বি-ভাষিক। পরে আমরা হিন্দি-ও যোগ করি। অনেকেই ছিল যারা বাংলাতে লিখতে চাইতো। আমাদের 'শুক্তি' ছিল তাদের জন্য অবারিত দ্বার। বাংলা সফটওয়্যার সেই সময় এ অপ্রতুল। এখন যেমন গুগল-এর মত বহুজাতিক সংস্থা বাংলা বা অন্যান্য ভারতীয় ভাষার অক্ষর তৈরি করছে, সেই সময় এসবের বালাই ছিল না।  অনেক কষ্ট করে পেলাম i -leap সফটওয়্যার।  

এই সফটওয়্যারটি ভীষণ মজাদার। একজনের বাড়ির কম্পিউটার এ ছিল এটি। এইবার চলল এক অদ্ভূত প্রতিযোগিতা — মানুষ বনাম যন্ত্র। তখনও আসেনি সিডি-এর যুগ। মোট পনেরোটা ফ্লপি তে আনা হলো সেই সফটওয়্যার। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তাকে আমরা পারলাম না বিভাগীয় কম্পিউটারে ভরতে। রইলো বাকি একটা আস্ত সিপিয়ু সেই মহোদয় এর বাড়িতে। এক শিক্ষকের স্কুটার এর পেছনে বসে সে চলে এলো সোজা আমাদের বিভাগে। এবং, আমাদের পত্রিকার পাতা বানানোর সময় সেই সিপিয়ু আনতে হত আর ফিরিয়ে দিতে হত দুই/তিন দিন পর! এভাবেই আমরা চালিয়েছি বছর চারেক, অবিরত। 

এখন বাংলা লেখা এত সহজ হয়ে গেছে যে সেই সব দিনগুলো ভুলেই গেছিলাম। আজ একটা ইংরেজি ব্লগ লিখতে গিয়ে মনে পড়ে গেল এই কথা গুলো।