Sunday, 3 November 2013

Bangla revolution

অনেক দিন ভেবেছি বাংলা তে ব্লগ লিখলে কেমন হয়? মাঝে মাঝে তো লেখাই যায়!

একটা সময় এসেছিল যখন বাংলা ব্লগ জনপ্রিয় করার জন্য বেশ কিছু নতুন ওয়েবসাইট করা হয়েছিল। সে অবশ্য এক যুগ আগের কথা। সেবার বইমেলা তে (তখনও বইমেলা হত পার্ক স্ট্রিটের পাশের ময়দানে) একটা দোকান দিয়েছিল এরকম উঠতি ওয়েবসাইট। দোকানে খুব ভীড় দেখে উঁকি মারলুম।  বলে কিনা নতুন এক সফটওয়্যার এসেছে। তাতেই নাকি বাংলা তে সব লেখা যাবে। আমরা তখন সবে ইউনিভার্সিটি ছেড়েছি। আমার উত্সাহের কারণ ছিল অবশ্য অন্য। এক সময় এত কষ্ট করে ২০ পাতা বাংলা তে লিখে ছাপাতে হত!

আমাদের ইংরেজি বিভাগে একটা পত্রিকা বের করতুম আমরা। আমি যখন প্রথম সেই বিভাগে ভর্তি হই, তখন দেখি সেটা বেশ চলছে, কিন্তু সব টাই হাতে লেখা। যিনি লেখেন তার হস্তাক্ষর খুবই ভালো। কিন্তু কালক্রমে তিনি বিভাগ থেকে চলে যান স্নাতকোত্তর পাস করে। এবং, সে ভার এসে চাপে আমার ঘাড়ে! কোন এক সিনিয়র দাদা, বা দিদি, ভেবেছিল আমার হাতের লেখা ভালো। আসলে লেখার হাত আর হাতের লেখার মধ্যে তফাত বিস্তর। সে কে কাকে বোঝায়, বিশেষত কাউকে তো পাওয়া গেছে বোঝা ঝেড়ে ফেলার জন্য!

তো, আমি খুব উত্সাহে লেগে পরলুম সেই পত্রিকার পেছনে। কাজ না থাকলে যা হয় আর কি! সকালে ক্লাস, দুপুরে পত্রিকার কাজ। কিন্তু আমার পক্ষে তো হাতে লেখা সম্ভব-ই না। এই দুরূহ কাজ করার জন্য আমার দুটো রাস্তা ছিল। এক, সুন্দর হস্তাক্ষর এর কাউকে খুঁজে বের করা। দুই, কম্পিউটার ব্যবহার করা। এইটা যে সময় এর কথা তখন গোটা শান্তিনিকেতনে কম্পিউটার হাতে গোনা কয়েকটা। মনে করুন কাউকে আপনি একটা পাতা টাইপ করে দিতে বললেন, তিনি নিদেন পক্ষে দুদিন নিতেন ঐটা করার জন্য। এরকম ভাবার কোনো কারণ নেই যে তিনি ওটা বিনা পয়সা তে করে দিতেন! যাই হোক, আমাদের তো রেস্ত এমনিতেই খুব কম। পয়সা দেবই বা কোত্থেকে। তাই অন্য ভাবনা শুরু করতেই হল। 

আমাদের কাছে কম্পিউটার ছিল মাত্র একটা। সেটাও বিভাগীয় কাজে প্রয়োজন হয়। আমাদের উত্সাহের বহর দেখে বিভাগীয় প্রধান শুক্লা-দি বললেন সেটি ব্যবহার করা যাবে। অনুমতি তো পাওয়া গেল, কিন্তু বাংলা সফটওয়্যার? এখানে প্রশ্ন জাগতেই পারে ইংরেজি বিভাগে বাংলা পত্রিকার কি দরকার? আবশ্যিক নিশ্চয়ই নয়। আমাদের পত্রিকাটি ছিল দ্বি-ভাষিক। পরে আমরা হিন্দি-ও যোগ করি। অনেকেই ছিল যারা বাংলাতে লিখতে চাইতো। আমাদের 'শুক্তি' ছিল তাদের জন্য অবারিত দ্বার। বাংলা সফটওয়্যার সেই সময় এ অপ্রতুল। এখন যেমন গুগল-এর মত বহুজাতিক সংস্থা বাংলা বা অন্যান্য ভারতীয় ভাষার অক্ষর তৈরি করছে, সেই সময় এসবের বালাই ছিল না।  অনেক কষ্ট করে পেলাম i -leap সফটওয়্যার।  

এই সফটওয়্যারটি ভীষণ মজাদার। একজনের বাড়ির কম্পিউটার এ ছিল এটি। এইবার চলল এক অদ্ভূত প্রতিযোগিতা — মানুষ বনাম যন্ত্র। তখনও আসেনি সিডি-এর যুগ। মোট পনেরোটা ফ্লপি তে আনা হলো সেই সফটওয়্যার। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তাকে আমরা পারলাম না বিভাগীয় কম্পিউটারে ভরতে। রইলো বাকি একটা আস্ত সিপিয়ু সেই মহোদয় এর বাড়িতে। এক শিক্ষকের স্কুটার এর পেছনে বসে সে চলে এলো সোজা আমাদের বিভাগে। এবং, আমাদের পত্রিকার পাতা বানানোর সময় সেই সিপিয়ু আনতে হত আর ফিরিয়ে দিতে হত দুই/তিন দিন পর! এভাবেই আমরা চালিয়েছি বছর চারেক, অবিরত। 

এখন বাংলা লেখা এত সহজ হয়ে গেছে যে সেই সব দিনগুলো ভুলেই গেছিলাম। আজ একটা ইংরেজি ব্লগ লিখতে গিয়ে মনে পড়ে গেল এই কথা গুলো। 

4 comments:

  1. khub bhalo laglo!

    i-Leap byabohar korar obhiggota amaro akshomoy hoechhe! pore rediffmail-e bangla chalu howar por onek-ke bangaly mail kortam. bhul banan, juktakkhor konotai jukto noy, ref aar rofola lagate 2 ghonta gham jhoranor por chupchap shegulo baad diei lekha ... eishob thaka shotteo banglay e-mail korar onubhutii alada!

    ReplyDelete
  2. moja chhilo... tar sathe jhamelao! :-)

    ReplyDelete
  3. Tor lekha ta pore besh laglo...onek purano bhule jawa obhyas o mone pore galo....bisesh kore floppy disk er byapar ta....oi ak i somoy ami tokhon Bangalore e IISc join korechi....to bibhinno lab e kora kaj sekhankar computer theke floppy te kore jogar kore ante hoto computer centre e, jekhane bose report banate hoto....Kichu floppy abar ak computer theke data save kore onno computer e kichutei khulto na, tokhon choto abar cycle niye campus er arek prante onno ak lab e...aro mone pore besh koek bochor por tokhon market e pen drive aste suru koreche ar akhon kar tulonay besh expensive tara. Akbar amader professor er lab e 1 khana pen drive kena holo (1GB) , lab er student der data copy korar jonno....sei pen drive sathe kore data to antoi, songe anto besh kichu virus....ajke bhable mone hoy koto purono diner sob kotha :)

    ReplyDelete
  4. aj jokhon 16GB pen drive pawa jaye 400 taka te, tokhon ekta 1GB pen drive kintey amader chanda tultey hoto! technology er change ta boddo odbhut... r khub taratari holo last 10 bochhore.

    ReplyDelete