Monday, 20 November 2017

রফি আর গৌতমদা

वो जब याद आए बहुत याद आए
ग़म-ए-ज़िंदगी के अंधेरे में हमने
चिराग-ए-मुहब्बत जलाए बुझाए...

মুহম্মদ রফি। 'পরশমণি'। ১৯৬৩।

সেদিন মধ্যরাতে মেসেঞ্জারে ভেসে আসে রফি সাব। গৌতমদার হাত ধরে। ভেসে আসে সেই সময়। বৃষ্টিতে ভেসে যাচ্ছে চারপাশ। রাস্তার পাশে এক মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছি আমরা। কীর্ণাহারের কাছে মুণ্ডমালিনী মন্দির। এর অদূরে আমাদের ত্রিপল টাঙানো হয়েছিল — পিকনিকের রান্নার জন্য। জানুয়ারির আচমকা বৃষ্টি এসে এলোমেলো করে দিচ্ছে রান্নার তোড়জোড়। এলোমেলো সময়ে ভেসে আসে রফি, গৌতমদার গলায় —

दिल की कहानी पहुची ज़ुबां तक, किस को खबर अब पहुंचे कहाँ तक
प्यार के राही आये यहाँ तक, जायेंगे दिल की हद है जहाँ तक
तुम साथ दो तो चले हम आसमां तक
दिल में अरमां लिए, लाख तूफां लिए
आ गये, आ गये ...

আমাদের কোনও লতা নেই? 'হাসিনা মান জায়েগী'। কেউ কি গৌতমদার সঙ্গে গলা মেলাতে পারে না? ১৯৬৮-র লতা পাওয়া দুষ্কর ২০০০-এর ১৯-শে জানুয়ারী। একাই গেয়ে যান গৌতামদা। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌতম ঘোষাল। অনেকের মধ্যে থেকেও একা। অসময়ের বৃষ্টি উপেক্ষা করেও কেউ-কেউ হাতে হাত রেখে সর্ষেক্ষেতের আলপথ ধরে পাড়ি দিয়েছে আহমদপুর-কাটোয়া ছোটরেল লাইনের দিকে। গৌতমদা গাইছেন,

... मुसाफ़िर मैं तू मंज़िल है, मैं प्यासा हूँ तू सावन है
मेरी दुनिया ये नज़रें हैं, मेरी जन्नत ये दामन है...
लिखे जो ख़त तुझे
वो तेरी याद में
हज़ारों रंग के
नज़ारे बन गए ...

আমিনিয়াতে বিরিয়ানি খাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও ছাত্রাবস্থায় পয়সার অভাবে কোনওদিন হয়ে ওঠেনি। একদিন অফিসে আসার আগে গেলুম খেতে। পাশের রফি-ভক্ত পানের দোকানে শুনি,

... मुहब्बत कर तो लें लेकिन, मुहब्बत रास आये भी
दिलों को बोझ लगते हैं, कभी ज़ुल्फ़ों के साये भी
हज़ारों ग़म हैं इस दुनिया में, अपने भी पराये भी
मुहब्बत ही का ग़म तन्हा नहीं, हम क्या करें ... 

পরশু রাতে গৌতমদা পাঠালেন এটাই — लुटे दिल में दिया जलता नहीं, हम क्या करें । तुम्ही कह दो, अब ऐ जाने-अदा, हम क्या करें...

আমি তখন খুব ছোট। বাবা কিনলেন ফিলিপসের টেপ রেকর্ডার। সে শুয়ে থাকতো। অনেক ক্যাসেটের সঙ্গে সাজানো 'হম কিসি সে কম নাহি-ইয়াদঁ কি বরাত'। বি-পিঠের দ্বিতীয় গান পনেরো বছর পর শান্তিনিকেতনের হাতিপুকুরের কোণের কোয়ার্টারে শুনি এরকমই এক প্রাক-শীতের সন্ধ্যায়, সঙ্গে গৌতমদারই করা কালো কফি —

याद है मुझको तूने कहा था
तुमसे नहीं रुठेंगे कभी
फिर इस तरह से आज मिले हैं
कैसे भला छूटेंगे कभी
तेरी बाहों में बीते हर शाम
के तुझे कुछ भी याद नहीं
क्या हुआ ...


মুহম্মদ রফি। ইন্টারনেটের সৌজন্যে প্রাপ্ত

Monday, 6 November 2017

আঠারো বছর আগের এক রাত

সেই প্রথম কোনও হাসপাতালে আমার রাত জাগা। সরকারি হাসপাতাল। বসার জায়গা নেই বললেই চলে। একটা বেঞ্চে জায়গা পেলাম। আরও কয়েকজনের সঙ্গে। বাইরে কালিপুজোর মাইক বেজে চলেছে। কলকাতার শহরতলি মধ্যমগ্রাম বিখ্যাত কালিপুজোর জন্য। হাসপাতাল বলে মাইকের জোর কমে না — সামাজিক জ্ঞান মানুষের তখনও ছিল না, এখনও নেই। রাতের খাবার আয়ার হাত দিয়ে পৌঁছে গেছে উপরে। আমার কোনও কাজ নেই — বসে বসে মশা মারা ছাড়া। পাশের ওষুধের দোকানে খোঁজ করতে অবশ্য মেলে মশা মারার ধূপ — কছুয়ার তখন ভালো বাজার। মাঝরাতে কোনও এক সময় ধূপ নিভে গেলে দেশলাইয়ের খোঁজ করি নিদ্রামগ্ন পাশের লোকের কাছে। দেশলাই পেলাম, সঙ্গে ঘুম ভাঙানোর জন্য একরাশ বকা — কেন দেশলাই রাখতে পারেন না, বিড়ি খান না তো কি দেশলাই রাখা যায় না... ইত্যাদি ইত্যাদি। বনগাঁ লাইনে যাতায়াতের সূত্রে গালাগাল খাওয়া-দেওয়া তখন জলভাত। এসব ছোটখাটো ব্যাপারে কান দিতে নেই।

বরঞ্চ কান খাড়া রাখতে হয় আয়াদের ডাকের জন্য। আঠারো বছর আগে "......... বাড়ির লোক কে আছেন?" এসব শোনার জন্য কান অভ্যস্ত ছিল না। এখনকার কর্পোরেট হাসপাতালের মত মাইকে ঘোষণা আসতো না ভেসে। এক আয়ার চীৎকারে ঘুম ভাঙে ভোরের দিকে। না, আমার তলব হয়নি। যার ডাক পড়েছে সেই সকালে সে চিন্তিত মুখে ছোটে ভেতরে। ফিরে আসে উদভ্রান্ত হয়ে — রক্ত লাগবে। ছুটল স্টেশনের দিকে। মানিকতলায় সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক ছাড়া রক্ত পাওয়া দুষ্কর। আমি রাতের আয়াকে চুপচাপ জিজ্ঞাসা করি বেড নম্বরের কথা — হাসপাতালে বেড নম্বরটাই দিদির পরিচয়। বললেন, ভালোই আছে, স্যালাইন চলছে। আর ছেলে?
— আপনার ছেলে ভীষণ দুরন্ত। দেখে কে বলবে কাল দুপুরেই হয়েছে!
— আমার না। আমি ওর মামা।
— ও বাবা! তা, মিষ্টি কৈ?
— কাল যে সব্বাইকে খাওয়ালাম।
— সে তো দিনের আয়ারা খেয়েছে। আমি আছি আটটা পর্যন্ত, নিয়ে এস।

দত্তপুকুর । ২৬-জানুয়ারী-২০০১

কাছাকাছির মধ্যে একটাই মিষ্টির দোকান খুলেছে সবে। এক হাঁড়ি রসগোল্লা। আরেক প্রস্ত মিষ্টি খাওয়া, বা খাওয়ানো, ওয়ার্ডের বাইরে। ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করি তাকে।
— উঁকি না দিয়ে চলেই যাও না ভেতরে!
— কিন্তু এখন তো ভেতরে যাওয়া মানা। ভিজিটিং আওয়ার্স তো সকাল দশটা থেকে...
— অতশত না ভেবে দেখে এস কেমন দুষ্টুমি করছে সে!
একা ছেলে খেলে বেড়াচ্ছে সকাল থেকেই — আজও যেমন করে! দিদিকে ডাকি, কোনও অসুবিধে হচ্ছে কিনা জানতে। আচ্ছন্ন গলায় দিদি মাথা নেড়ে বোঝায় সব ঠিক আছে। বেরিয়ে আসছি, কান্না জুড়েছে সে। ফিরে তাকাই, চুপ। আবার বেরনোর চেষ্টা; আবার কান্না। আয়া মজা করে বলে, ও তোমাকে ছাড়বে না।

ছাড়েও নি। আজও দু'হাজার কিলোমিটার দূর থেকে শুনতে পাই, মামাই ও মামাই, ইডেনে খেলা দেখাতে নিয়ে যাবে না?