সেই প্রথম কোনও হাসপাতালে আমার রাত জাগা। সরকারি হাসপাতাল। বসার জায়গা নেই বললেই চলে। একটা বেঞ্চে জায়গা পেলাম। আরও কয়েকজনের সঙ্গে। বাইরে কালিপুজোর মাইক বেজে চলেছে। কলকাতার শহরতলি মধ্যমগ্রাম বিখ্যাত কালিপুজোর জন্য। হাসপাতাল বলে মাইকের জোর কমে না — সামাজিক জ্ঞান মানুষের তখনও ছিল না, এখনও নেই। রাতের খাবার আয়ার হাত দিয়ে পৌঁছে গেছে উপরে। আমার কোনও কাজ নেই — বসে বসে মশা মারা ছাড়া। পাশের ওষুধের দোকানে খোঁজ করতে অবশ্য মেলে মশা মারার ধূপ — কছুয়ার তখন ভালো বাজার। মাঝরাতে কোনও এক সময় ধূপ নিভে গেলে দেশলাইয়ের খোঁজ করি নিদ্রামগ্ন পাশের লোকের কাছে। দেশলাই পেলাম, সঙ্গে ঘুম ভাঙানোর জন্য একরাশ বকা — কেন দেশলাই রাখতে পারেন না, বিড়ি খান না তো কি দেশলাই রাখা যায় না... ইত্যাদি ইত্যাদি। বনগাঁ লাইনে যাতায়াতের সূত্রে গালাগাল খাওয়া-দেওয়া তখন জলভাত। এসব ছোটখাটো ব্যাপারে কান দিতে নেই।
বরঞ্চ কান খাড়া রাখতে হয় আয়াদের ডাকের জন্য। আঠারো বছর আগে "......... বাড়ির লোক কে আছেন?" এসব শোনার জন্য কান অভ্যস্ত ছিল না। এখনকার কর্পোরেট হাসপাতালের মত মাইকে ঘোষণা আসতো না ভেসে। এক আয়ার চীৎকারে ঘুম ভাঙে ভোরের দিকে। না, আমার তলব হয়নি। যার ডাক পড়েছে সেই সকালে সে চিন্তিত মুখে ছোটে ভেতরে। ফিরে আসে উদভ্রান্ত হয়ে — রক্ত লাগবে। ছুটল স্টেশনের দিকে। মানিকতলায় সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক ছাড়া রক্ত পাওয়া দুষ্কর। আমি রাতের আয়াকে চুপচাপ জিজ্ঞাসা করি বেড নম্বরের কথা — হাসপাতালে বেড নম্বরটাই দিদির পরিচয়। বললেন, ভালোই আছে, স্যালাইন চলছে। আর ছেলে?
— আপনার ছেলে ভীষণ দুরন্ত। দেখে কে বলবে কাল দুপুরেই হয়েছে!
— আমার না। আমি ওর মামা।
— ও বাবা! তা, মিষ্টি কৈ?
— কাল যে সব্বাইকে খাওয়ালাম।
— সে তো দিনের আয়ারা খেয়েছে। আমি আছি আটটা পর্যন্ত, নিয়ে এস।
কাছাকাছির মধ্যে একটাই মিষ্টির দোকান খুলেছে সবে। এক হাঁড়ি রসগোল্লা। আরেক প্রস্ত মিষ্টি খাওয়া, বা খাওয়ানো, ওয়ার্ডের বাইরে। ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করি তাকে।
— উঁকি না দিয়ে চলেই যাও না ভেতরে!
— কিন্তু এখন তো ভেতরে যাওয়া মানা। ভিজিটিং আওয়ার্স তো সকাল দশটা থেকে...
— অতশত না ভেবে দেখে এস কেমন দুষ্টুমি করছে সে!
একা ছেলে খেলে বেড়াচ্ছে সকাল থেকেই — আজও যেমন করে! দিদিকে ডাকি, কোনও অসুবিধে হচ্ছে কিনা জানতে। আচ্ছন্ন গলায় দিদি মাথা নেড়ে বোঝায় সব ঠিক আছে। বেরিয়ে আসছি, কান্না জুড়েছে সে। ফিরে তাকাই, চুপ। আবার বেরনোর চেষ্টা; আবার কান্না। আয়া মজা করে বলে, ও তোমাকে ছাড়বে না।
ছাড়েও নি। আজও দু'হাজার কিলোমিটার দূর থেকে শুনতে পাই, মামাই ও মামাই, ইডেনে খেলা দেখাতে নিয়ে যাবে না?
বরঞ্চ কান খাড়া রাখতে হয় আয়াদের ডাকের জন্য। আঠারো বছর আগে "......... বাড়ির লোক কে আছেন?" এসব শোনার জন্য কান অভ্যস্ত ছিল না। এখনকার কর্পোরেট হাসপাতালের মত মাইকে ঘোষণা আসতো না ভেসে। এক আয়ার চীৎকারে ঘুম ভাঙে ভোরের দিকে। না, আমার তলব হয়নি। যার ডাক পড়েছে সেই সকালে সে চিন্তিত মুখে ছোটে ভেতরে। ফিরে আসে উদভ্রান্ত হয়ে — রক্ত লাগবে। ছুটল স্টেশনের দিকে। মানিকতলায় সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাঙ্ক ছাড়া রক্ত পাওয়া দুষ্কর। আমি রাতের আয়াকে চুপচাপ জিজ্ঞাসা করি বেড নম্বরের কথা — হাসপাতালে বেড নম্বরটাই দিদির পরিচয়। বললেন, ভালোই আছে, স্যালাইন চলছে। আর ছেলে?
— আপনার ছেলে ভীষণ দুরন্ত। দেখে কে বলবে কাল দুপুরেই হয়েছে!
— আমার না। আমি ওর মামা।
— ও বাবা! তা, মিষ্টি কৈ?
— কাল যে সব্বাইকে খাওয়ালাম।
— সে তো দিনের আয়ারা খেয়েছে। আমি আছি আটটা পর্যন্ত, নিয়ে এস।
![]() |
| দত্তপুকুর । ২৬-জানুয়ারী-২০০১ |
কাছাকাছির মধ্যে একটাই মিষ্টির দোকান খুলেছে সবে। এক হাঁড়ি রসগোল্লা। আরেক প্রস্ত মিষ্টি খাওয়া, বা খাওয়ানো, ওয়ার্ডের বাইরে। ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করি তাকে।
— উঁকি না দিয়ে চলেই যাও না ভেতরে!
— কিন্তু এখন তো ভেতরে যাওয়া মানা। ভিজিটিং আওয়ার্স তো সকাল দশটা থেকে...
— অতশত না ভেবে দেখে এস কেমন দুষ্টুমি করছে সে!
একা ছেলে খেলে বেড়াচ্ছে সকাল থেকেই — আজও যেমন করে! দিদিকে ডাকি, কোনও অসুবিধে হচ্ছে কিনা জানতে। আচ্ছন্ন গলায় দিদি মাথা নেড়ে বোঝায় সব ঠিক আছে। বেরিয়ে আসছি, কান্না জুড়েছে সে। ফিরে তাকাই, চুপ। আবার বেরনোর চেষ্টা; আবার কান্না। আয়া মজা করে বলে, ও তোমাকে ছাড়বে না।
ছাড়েও নি। আজও দু'হাজার কিলোমিটার দূর থেকে শুনতে পাই, মামাই ও মামাই, ইডেনে খেলা দেখাতে নিয়ে যাবে না?

mamai to akhon tatai e nie basto . bhalo lekha .
ReplyDeleteTokai...mamai...r papai.... Valo thakis....sobai��
ReplyDeleteTokai...mamai...r papai.... Valo thakis....sobai��
ReplyDelete