কাজটা মোটেও সহজ ছিল না। সদ্য স্নাতকোত্তর শেষে তখন আমি বেকার। এরকমই এক বর্ষার দুপুরে খবর পেলাম আকাশবাণী-শান্তিনিকেতনে ঘোষক নেওয়া হবে। ভাবলাম নাটক তো অনেক করেছি এক সময় — গলার কারিকুরিতে নাট্যঘরের শেষ দর্শককেও শোনাতে পারতাম। আবার, ছাত্র ভোটের সময় মিছিলের পুরোভাগে স্লোগানও দিতাম। এইসব জানত শান্তিনিকেতনে আমার অনেক বন্ধু-ই। ওরাই আমাকে উত্সাহ যোগাল অডিশন দিতে যেতে। গেলুম চলে।
একটা বড় ঘর। কাঁচ ঢাকা। একটা মাইক। একটা কন্ঠস্বর। নাম জানতে চাইল। বললাম। একটা সাদা কাগজ রাখা। বলল পড়তে। বিভিন্ন রকমের শব্দ আর বাক্যমালা। শেষে এলো সেই কঠিন পরীক্ষা। কবিতা আবৃত্তি। এ এমন এক কলা যা আমি আয়ত্তে আনতে পারিনি কোনদিন। অষ্টম ক্লাসের মৌখিক পরীক্ষা। বেনুদা বললেন ''উলঙ্গ রাজা' বলবে, না আমি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করব'? এমন সুযোগ কেউ কি ছাড়ে? আমি বললাম প্রশ্নই করুন। দশের মধ্যে আট পেলুম। আনন্দ। না হলে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে হত 'রাজা তোর কাপড় কোথায়'? বেঁচে গেলাম সেবার।
কিন্তু এই কাঁচের ঘরে বাঁচাবে কে? কাউকে দেখা যায়ে না। এরপর সেই বিনীত অনুরোধ। 'কোনো কবিতাই আমার মুখস্থ নয়। আমি কি গদ্যাংশ পড়তে পারি কিছু?' এলো। একজন এসে এক পৃষ্ঠা রবীন্দ্রনাথ দিয়ে গেলেন। কোনো কথা নেই তাঁর মুখে। মিলিয়ে গেলেন কাঁচের ওপারে। আবার ভেসে এলো সেই আওয়াজ। 'পড়ুন'। পড়লাম। বেরিয়ে আসুন। হয়ে গেল? আরো দেখলাম অনেক চেনা-অচেনা মুখ বসে আছেন বাইরে। অডিশন-এর জন্য। তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সোজা গুরুপল্লিতে আমার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িতে।
ভুলেই গেছিলাম আকাশবাণীর কথা। একদিন সন্ধ্যাতে আড্ডা চলছে সুবোধ'দার চা-এর দোকানে। অমর্ত্য'দা এসে বলল, 'অনেক তো কিপ্টেমি করেছিস। এবার তো খাওয়া।' অমর্ত্য'দার সঙ্গে অনেক নাটক করেছি এক সময়। আমাদের নাটক এর নির্দেশক ছিল ও। এখন সঙ্গীত ভবনের নাটক বিভাগের অধ্যাপক। আমি বললাম আবার কিসের খাওয়া? 'রেডিও রেডিও...।' বুঝলাম। এরপর অমর্ত্য'দাকে নিয়ে সাইকেলে আকাশবাণী। কাগজপত্রে সই-সাবুদ করে জেনে নিলাম কবে শুরু হবে বেতার যাত্রা।
এরপর চলল দেবাশিস বসুর সঙ্গে একপক্ষ-কাল ব্যাপী শিক্ষানবিশি। কিভাবে কথা বলতে হবে। স্বর কিভাবে সঞ্চালন করতে হয়। কিছু কৌশল নাটক করার কারণে জানতাম। তবে মঞ্চের মাইক আর স্টুডিও-এর মাইক — অনেক আলাদা। জোরে কথার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এরসঙ্গে চলল রেডিও কনসোল কি করে সামলাতে হয় তার-ও তালিম। একদিন দেখলাম আমাকে একসাথে সিডি, ক্যাসেট আর স্পুল চালাতে হচ্ছে! কালক্রমে এটাই হয়ে গেল অভ্যাস।
লাইভ অনুষ্ঠান দিয়ে পুজোর ঠিক আগে শুরু হলো আমার বেতার যাত্রা। অনেকদিন পর সেদিন (৩০ জুলাই, ২০১৪) আবার গেলাম আরেকটা বেতার স্টুডিওতে। মাঝে কেটে গেছে দশটা বছর। আমিও এখন বেতার জগত্ ছেড়ে অন্য কাজ করি। কিন্তু বেতার এর রোমাঞ্চটা থেকেই গেছে কোথাও একটা!
একটা বড় ঘর। কাঁচ ঢাকা। একটা মাইক। একটা কন্ঠস্বর। নাম জানতে চাইল। বললাম। একটা সাদা কাগজ রাখা। বলল পড়তে। বিভিন্ন রকমের শব্দ আর বাক্যমালা। শেষে এলো সেই কঠিন পরীক্ষা। কবিতা আবৃত্তি। এ এমন এক কলা যা আমি আয়ত্তে আনতে পারিনি কোনদিন। অষ্টম ক্লাসের মৌখিক পরীক্ষা। বেনুদা বললেন ''উলঙ্গ রাজা' বলবে, না আমি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করব'? এমন সুযোগ কেউ কি ছাড়ে? আমি বললাম প্রশ্নই করুন। দশের মধ্যে আট পেলুম। আনন্দ। না হলে আমাকে জিজ্ঞাসা করতে হত 'রাজা তোর কাপড় কোথায়'? বেঁচে গেলাম সেবার।
কিন্তু এই কাঁচের ঘরে বাঁচাবে কে? কাউকে দেখা যায়ে না। এরপর সেই বিনীত অনুরোধ। 'কোনো কবিতাই আমার মুখস্থ নয়। আমি কি গদ্যাংশ পড়তে পারি কিছু?' এলো। একজন এসে এক পৃষ্ঠা রবীন্দ্রনাথ দিয়ে গেলেন। কোনো কথা নেই তাঁর মুখে। মিলিয়ে গেলেন কাঁচের ওপারে। আবার ভেসে এলো সেই আওয়াজ। 'পড়ুন'। পড়লাম। বেরিয়ে আসুন। হয়ে গেল? আরো দেখলাম অনেক চেনা-অচেনা মুখ বসে আছেন বাইরে। অডিশন-এর জন্য। তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সোজা গুরুপল্লিতে আমার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িতে।
ভুলেই গেছিলাম আকাশবাণীর কথা। একদিন সন্ধ্যাতে আড্ডা চলছে সুবোধ'দার চা-এর দোকানে। অমর্ত্য'দা এসে বলল, 'অনেক তো কিপ্টেমি করেছিস। এবার তো খাওয়া।' অমর্ত্য'দার সঙ্গে অনেক নাটক করেছি এক সময়। আমাদের নাটক এর নির্দেশক ছিল ও। এখন সঙ্গীত ভবনের নাটক বিভাগের অধ্যাপক। আমি বললাম আবার কিসের খাওয়া? 'রেডিও রেডিও...।' বুঝলাম। এরপর অমর্ত্য'দাকে নিয়ে সাইকেলে আকাশবাণী। কাগজপত্রে সই-সাবুদ করে জেনে নিলাম কবে শুরু হবে বেতার যাত্রা।
এরপর চলল দেবাশিস বসুর সঙ্গে একপক্ষ-কাল ব্যাপী শিক্ষানবিশি। কিভাবে কথা বলতে হবে। স্বর কিভাবে সঞ্চালন করতে হয়। কিছু কৌশল নাটক করার কারণে জানতাম। তবে মঞ্চের মাইক আর স্টুডিও-এর মাইক — অনেক আলাদা। জোরে কথার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এরসঙ্গে চলল রেডিও কনসোল কি করে সামলাতে হয় তার-ও তালিম। একদিন দেখলাম আমাকে একসাথে সিডি, ক্যাসেট আর স্পুল চালাতে হচ্ছে! কালক্রমে এটাই হয়ে গেল অভ্যাস।
লাইভ অনুষ্ঠান দিয়ে পুজোর ঠিক আগে শুরু হলো আমার বেতার যাত্রা। অনেকদিন পর সেদিন (৩০ জুলাই, ২০১৪) আবার গেলাম আরেকটা বেতার স্টুডিওতে। মাঝে কেটে গেছে দশটা বছর। আমিও এখন বেতার জগত্ ছেড়ে অন্য কাজ করি। কিন্তু বেতার এর রোমাঞ্চটা থেকেই গেছে কোথাও একটা!