Monday, 11 November 2019

বাংলা ছবি, আজকাল

সেদিন একটা বাংলা ছবির সারণি দিয়েছিলাম ফেসবুকে। চার সপ্তাহে প্রায় চল্লিশটা ছবি দেখেছিলাম একটা অ্যাপে। অবশ্যই এর একটা বড় কারণ ছিল না-দেখা ছবিগুলো দেখে ফেলা। অন্য একটা কারণও ছিল — গত সাত বছরে কিভাবে বাংলা চলচ্চিত্র পরিবর্তিত হয়েছে। সাত বছর আগে আমি শেষ হলে গিয়ে কোনও বাংলা ছবি দেখি।

ফেসবুকে তালিকাটি দেওয়ার পরেই বেশ কিছু মন্তব্য এল, সঙ্গে হরেকরকম ইমোজি। অনেকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আমি মানসিক ভাবে সুস্থ কি না! যখন আমরা ইংরেজি সাহিত্য পড়তাম, তখন থেকেই একটা অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল সবকিছুকেই টেক্সট হিসেবে দেখা। চলচ্চিত্র-চর্চা চলত তখন থেকেই। কলকাতার সিনে সেন্ট্রালের লাইফ মেম্বার হওয়ার কারণে সারা বছর বিভিন্ন দেশের ছবি দেখেছি বছরের পর বছর। আমার বন্ধুদের ক'জন তিউনিসিয়ার ছবি দেখেছে জানিনা, কিন্তু আমার মত কিছু পাগল, এই মনে করুন ১০-১২ জন সাতদিন ধরে দুপুরে নন্দন-২ হলে সেই চলচ্চিত্র উৎসব দেখেছি — বলা ভালো, গিলেছি। শান্তিনিকেতনে আমরা শুরু করেছিলাম বীক্ষণ ফিল্ম সোসাইটি আর তার আন্তর্জাতিক উৎসবের সময় ছবি যোগাতেন সিনে সেন্ট্রালের অলোকদা। ছবি কিউরেট করা থেকে শুরু করে কলকাতা থেকে ক্যান এনে বোলপুরের গীতাঞ্জলিতে দেখানোর কাজ করেছি দীর্ঘদিন। তখন কেউ পাগল বলেনি, বরং ৭৫০ সিটের প্রেক্ষাগৃহ পূর্ণ করে লোকজন দেখতে এসেছে, মাত্র ১০ টাকার টিকিটে।

তো এখন কেন ভাবল যে আমি পাগল? বা, আমার মত যারা বাংলা ছবি দেখে, তারাও কি পাগল? এই ৪০-টি ছবির পরিচালকরা আমাদের সময়ের সেরা বলা চলে। সেরা দু'রকম হয় — সত্যজিৎ রায়-ঋত্বিক ঘটক আর অন্যদিকে অজয় কর-অগ্রদূত। পৃথিবীর সব ভাষাতেই হয়ত এই দুই ধরণের ছবি হয়। আমাদের সময় তো অনেক ভালো যখন দেখি সৃজিত মুখোপাধ্যায়, রাজ চক্রবর্তী, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং আরও অনেকেই হাউসফুল পাচ্ছেন। যদি মনে করি, চলচ্চিত্রের একমাত্র উদ্দেশ্য বিনোদন, তবে একথা অনস্বীকার্য যে আমি সব ছবিগুলো দেখে আনন্দ পেয়েছি। প্রত্যেকটা ছবির স্বাদ আলাদা, এমনকি পার্থক্য আছে 'চৌরঙ্গী' আর 'শাহজাহান রিজেন্সি'-তেও। 'বিবাহ অভিযান' না দেখলে জানতেও পারতাম না 'শাহজাহান রিজেন্সি'-তে নিজের গাওয়া গানের প্যারডি নিজেই কি করে করেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য! বিরসা-অরিন্দম-প্রতিম-নন্দিতা-শিবপ্রসাদ-ধ্রুব এঁরা প্রত্যেকে যথেষ্ট ভেবে এবং পরিশ্রম করে ছবিগুলো বানিয়েছেন, তা বোঝাই যায়। প্রত্যেকের নিজস্ব ধারা আছে।


(ছবি ইন্টারনেট থেকে)

তবে বাঙালি দর্শকের মুশকিলটা কোথায়? ভালো গল্প নেই? না কি পরিচালকরা গল্প বলতে পারছেন না? না কি ভালো অভিনেতা নেই? মানছি, উত্তম-সুচিত্রার মত জুটি আবার হবে না, কিন্তু মিমি-সোহম বা আবির-পায়েল? এঁরা কি খুব খারাপ? চিত্রনাট্য অনুসারে এঁদের অভিনয় খারাপ না, বরং এখনকার হিন্দি ছবিগুলোর তুলনাতে অনেকের অভিনয় বেশ ভালো — যেমন যীশু বা শাশ্বত বা আবির বা অনির্বাণ, আর সর্বোপরি প্রসেনজিৎ। মজার ব্যাপার হলো, বেশ কিছু ছবি জনপ্রিয় দক্ষিণ ভারতীয় ছবির পুনর্নির্মাণ। কিন্তু তাও নাকি আজকের বাঙালির পছন্দ না। এ কি আমাদের উন্নাসিকতা? আমরাও কি রবীন্দ্রনাথ আর সত্যজিতে আটকে পড়েছি? তবে কিন্তু বিপদ। রবীন্দ্রনাথের থেকে ভালো গীতিকার হয় না, মানছি; কিন্তু অনুপম বা দীপাংশু বা ঋতম কি খুব-খুউব খারাপ? গৌরীপ্রসন্ন-নচিকেতা-পুলকের যুগ ফিরে আসবে না জানি। যুগের সঙ্গে পরিবর্তনটাও তো চাই। কারণ দর্শকেরও তো পরিবর্তন হয়েছে।  

সমস্যাটা হয়ত অন্য জায়গায়। আমার মনে হয় কয়েকটি কারণ — ১. টিভির ছোট পর্দাকে আপন করে নেওয়া ২. সেই জন্য হলে গিয়ে ছবি দেখার নেশা চলে যাওয়া ৩. এই নেশার ফলে মফস্সলে হলগুলোর অবনতি এবং ক্রমহ্রাসমান দর্শক ৪. কলকাতা ও শহরতলিতেও হল বাঁচিয়ে রাখতে বাংলা ছবির জায়গা কম দেওয়া ৫. বিভিন্ন অ্যাপে ছবি দেখা 
এর প্রত্যেকটি কারণ একে-অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এর সঙ্গে যোগ করুন মিলেনিয়াল বাবা-মা'দের উত্তর-মিলেনিয়াল সন্তানদের 'জঙ্গল বুক' দেখাতে নিয়ে যাওয়া কিন্তু 'গুপ্তধনের সন্ধানে' দেখানো থেকে নিরস্ত করা। আমরা ধরেই নিয়েছি বাংলা ভাষার সব ছবি খারাপ — সে বড়দের হোক বা ছোটদের। আচ্ছা, বাংলা ছবির স্বর্ণযুগে একটা 'ভিঞ্চি দা' বা একটা 'সোয়েটার' বা 'বেলাশেষে' হয়েছে? যাঁরা একটু অন্যরকম ভাবেন বা ছবি করেন, তাঁদের ভাবনার স্বীকৃতির জন্যও তো ছবিগুলো দেখা যায়। 


[চার সপ্তাহে দেখা প্রায় চল্লিশটা ছবির তালিকাটি আবার দিলাম —বর্ণ পরিচয়, শাহজাহান রিজেন্সি, চৌরঙ্গী, মুখার্জিদার বৌ, আহারে মন, বিবাহ অভিযান, রসগোল্লা, গুপ্তধনের সন্ধানে, দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন, সোয়েটার, ভিঞ্চি দা, ভিলেন, বাপি বাড়ি যা, বোঝে না সে বোঝে না, চিরদিনই তুমি যে আমার, চিরদিনই তুমি যে আমার ২, এবার শবর, আসছে আবার শবর, গল্প হলেও সত্যি, প্রলয়, হেমলক সোসাইটি, শুধু তোমারই জন্য, ক্রিসক্রস, বাঙালি বাবু ইংলিশ মেম, বেলাশেষে, জামাই ৪২০, জাতিস্মর, চতুষ্কোণ, কাটমুণ্ডু, গ্যাংস্টার, কি করে তোকে বলবো, নির্বাক, এক যে ছিল রাজা, কেলোর কীর্তি, প্রাক্তন, টোটাল দাদাগিরি, জুলফিকার, হামি, পারব না আমি ছাড়তে তোকে ]

Thursday, 28 February 2019

বাবার জন্মদিন

শ্রীচরণেষু বাবা।
এই লিখে শুরু হত আমার চিঠি। জায়গা আমার জন্য সংক্ষিপ্ত। ইনল্যান্ড লেটার-এর পেছনের পাতার অর্ধেক। বাকি অর্ধেক দিদির। বাকি দুই পাতা মা -এর। বাবা বাড়ি আসে বছরে দু-তিনবার। চিঠি আসে যায় প্রতি সপ্তাহে প্রায়। শেখার আবদার করাতে একবার বাবা লিখল পরের বার এসে ঘুড়ি ওড়ানো শিখিয়ে দেবে। ছুটির মধ্যে হঠাৎ ডাক আসে। অফিস যেতে হবে পরদিন। অনেক লম্বা সে রেলযাত্রা। বাবার কাছে আমার ঘুড়ি ওড়ানো শেখা হল না।

ষাটের দশকে তখন জিওলজিস্ট। 

শেখা হয়নি অনেক কিছুই। সাঁতার বা ফুটবল। বাবা জেলাস্তরে ফুটবল খেলেছে, হাড়ও ভেঙেছে। আমাদের বাড়ি ছিল পুকুরপাড়ে কিন্তু হস্টেল চলে গেলাম তাই বাবার সঙ্গে দুই-একবার জলে নামলেও সাঁতার শেখা হয়নি তখন। ফুটবলেও তাই হল। কিন্তু এসবের বাইরে শিখলাম অনেক কিছু, বিশেষত অঙ্ক। লোডশেডিং তখন নিয়মিত, অবশ্যম্ভাবী। হ্যারিকেনের আলোতে যুদ্ধ — বাবা, আমি আর অঙ্ক। এমন যুদ্ধে কাবু হতে হতে একসময় আমি জয়ী হতাম। তখন ছাড় পেতাম বাবার কাছে। হয়তো মাঝরাতে।

খাজুরাহোতে সত্তরের দশকে। 

আসলে বাবাদের কাছে শেখা তো ঠিক স্কুলের মত হয়না। এর না আছে কোনও বাঁধা-ধরা ছক বা সময়। সার্কাস শেষ দেখেছি বাবার সঙ্গে, এবং পি.সি. সরকারের জাদুও। সে-সবের মাঝে উত্তর দিয়ে গেছে আমার অজস্র কেন-এর। হয়তো বইমেলাতে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছে ১৩-এর ঘরের নামতা।
ছোটবেলাতে বাসের টিকিট জমাতাম। বাবা একদিন সেখান থেকে একমুঠো টিকিট দিয়ে বলল কত টাকার টিকিট হয়েছে গুনতে! খেলা হয়ে গেল পড়া।

একদিন হেমন্ত গেল আটকে। বাবা শেখাল কি করে টেপ ছাড়াতে হয় হেড থেকে আর তারপর পেনসিল দিয়ে সেটা ঠিক করতে হয়। তবে কখনও শিখিনি সিগারেট খাওয়া, দেখেছি কিভাবে বদলে যায় প্যাকেটের নামগুলো — ক্যাপস্টান, রিজেন্ট, উইলস বা গোল্ড ফ্লেক। যখন বাবাকে নিয়ে যাচ্ছে এঞ্জিওপ্লাস্টি করাতে, তখনও কি বালিশের তলাতে ক্লাসিকের প্যাকেটটা ছিল? দেখলাম, নেই! ছোট থেকে বলতাম খেয়ো না, কথা শুনতো না। কথা শোনা-না-শোনা একটা দ্বিপাক্ষিক ব্যাপার। আমিও তো বাবার অনেক কথা শুনিনি!

বাবা আর আমি। দুর্গাপুর। ১৯৮২

২৯শে ফেব্রুয়ারী বাবার জন্মদিন, চার বছরে একবার আসে। এবছর নেই। বাবার যে-বছর পঞ্চাশ হয়েছিল, সেই বছরও ছিল না লিপ ইয়ার। বাবা বাইরে। আমি আর দিদি কার্ড পাঠিয়েছিলাম। এবার বাবার পঁচাত্তর। আমি বাইরে। বাবার জন্মদিন আসে আর যায়। নীরবে।

Monday, 28 January 2019

তবু মনে রেখো

— শান্তিনিকেতন গ্যাছো?
— না। ও তো বাবুদের জায়গা! তবে কলা ভবনে যাওয়ার একটা ইচ্ছে আছে।
— বেশ তো। তোমার তথ্যচিত্র দেখানোর ব্যবস্থা করি। ওখানে একটা ফিল্ম ক্লাব, বীক্ষণ, আমরা শুরু করেছিলাম। তার সদস্যদের ভালো লাগবে। সর্বোপরি, বিনয় মজুমদারকে নিয়ে এমন কাজ তো আগে হয়নি।
— আর হবেও না, বুঝলা? কলকাতার বাবুরা ওঁকে পাত্তা দেয়নি। ভাবতে পারো, একটা লোক সবার আড়ালে বসে অঙ্ক করে আর কবিতা লেখে। এরকম মানুষ তুমি দেখেছ কয়ডা?
— কিন্তু উনি তো অভিমানি। সাহিত্য সভাতে যাবেন না!
— কে বলেছে? কলকাতা মর্যাদা দেয় কবিকে? কত কবি-শিল্পী হারিয়ে গেলো ওদের জন্য...

ওরা কারা? এটা শঙ্করদাকে জিজ্ঞাসা করলে হাসতো শুধু, আর হাজারো আঁকা খুলে দেখাতো।
— আমার তো আঁকার কোনো প্রথাগত শিক্ষা নেই। বঙ্গবাসি কলেজ। তাই সাহস করে কলা ভবন-মুখো হইনি।

শঙ্করদা গিয়েছিল কলা ভবন, বীক্ষণের আমন্ত্রণে তথ্যচিত্র, 'অন্য আলো, অন্য আঁধার' দেখাতে। আমি শিবদাকে (শিবাদিত্য সেন) বলেছিলাম শঙ্করদার কথা। রতনে রতন চেনে। পরিচয় হল দুজনের। প্রান্ত কবির কথা প্রান্তিক ছবি-করিয়ে শোনালো শান্তিনিকেতনকে। সেদিন কি আনন্দ শঙ্করদার। আমাকে ফোন করে বলল সে কথা, আর বলল রামকিঙ্করের কলের বাঁশি, সাঁওতাল পরিবারের কথা। শিবদা যেদিন চলে গেল গত বছর, শঙ্করদা আমার ফেবু পোস্টের তলায় লিখল, "শিবদা আমাদের স্মৃতিতে থাকবেন। ওনার আমন্ত্রণেই প্রথম শান্তিনিকেতনে যাই।"


গতকাল ফেবু বলল, শঙ্করদা নেই। দু'সপ্তাহ সময় দিয়েছিল ক্যান্সার, বা একটু বেশি। কাউকে জানায়নি তেমন, বাড়ির লোকজন ছাড়া। এর মাঝেই কাজ করেছে। আমি সেদিন বাদামিতে। হোটেলে সকাল হোলো শঙ্করদার ছবি দেখে, ফেবুতেই। ওই সকালেই শেষ পোস্ট। ২৬শে জানুয়ারি তো প্রজাতন্ত্র দিবস, সেদিনই 'লাস্ট পোস্ট'? যুদ্ধ তো বাকি। পরদিন শেষ।

— জানো, ওরা কতটা যুদ্ধ করে?
— কারা?
— ইঁটভাটার মহিলারা। সারা দুপুর ধরে স্কেচ করলাম। কোলে বাচ্চা নিয়ে মা কাজ করছে, সে-ই মা আবার রান্না করছে, সন্ধ্যে নামলেই অন্ধকার, অত্যাচার।
— তো কি করবে তুমি?
— ছবি বানাবো। ওরা ঝাড়খণ্ড থেকে এসেছে। আবার চলে যাবে। আবার আসবে। কিন্তু ঘামঝরা এই ইতিহাস ধরে রাখা দরকার। 

পাঁচ বছর ধরে চলল কাজ। তথ্যচিত্র 'পোড়া মাটি মুখ' তৈরি হোলো। সঙ্গে চলছে রাতভর ছবি আঁকা। আমার সাধ্যমত একটা ছোট লেখা লিখলাম। সে-ও প্রায় এগারো বছর আগে।


— করেছ কি? ইংরেজি কাগজে আমার নাম?
— মানে ঐ আর কি। তোমাদের মত মানুষদের জন্য যেটুকু পারি।
— প্রান্ত কথাটার মানে বোঝো? আমাদের কথা কেউ লেখে না, আর এটা অভিমানের কথা না, উপেক্ষিতর কথা।
— কিন্তু তোমার চলচিত্র আর রেখাচিত্র অন্য কথা বলে। তুমি মোটেও উপেক্ষিত নও।
— সে তুমি বুঝবা না।

মাঝে মাঝে আমরা হারিয়ে যাই। যে যার কাজে ব্যস্ত। হঠাৎ মোবাইলের পর্দায় ভেসে ওঠে, "মনে রেখো"। কোনওদিন ভাবতে পারিনি লিখতে হবে মনে রাখার কথা।

কত কথা মনে আসছে, সব লেখাও যায় না। যেমন, নতুন ফ্ল্যাট কিনেছি, শঙ্করদাকে বললাম। এসে দেখে বলল, একটা দেওয়াল আমার জন্য ছেড়ে দাও, ছবি আঁকবো। আমি বললুম, বেশ তো, আঁকো। তারপর আর আঁকলো না। সারারাত ধরে ভাবলো আঁকবে কিন্তু সকালে একটা বিড়ি ধরিয়ে নিচে চা-এর দোকানে চা খেয়ে ধাঁ! একদিন দুপুরে বাড়ি এসে আমার মা-এর হাতে রান্না খেয়ে বলে, আবার একদিন খাবো কাকিমা। কিন্তু আর এলো না! এরকম বিভিন্ন সময়ে শঙ্করদা দেখা দিয়েছে হঠাৎ আবার হারিয়েও গেছে তেমনই। শুধু এবার হারিয়ে গেল, আর দেখা হবে না।