— দেখি কতটা হলো?
— অনেক, দাদু। দিদির থেকে বেশি, টুম্পাদির থেকেও বেশি।
— শুঁয়োপোকা উঠেছিল হাতে?
— না। তবে কয়েকটা আমি মেরেছি পা দিয়ে।
আমাদের শেঠপুকুরের বাড়িতে একটা বড় গাছ ছিল শিউলি ফুলের। পুজোর আগে দুর্গাপুর থেকে এসে আমার প্রথমেই মনে হত শুঁয়োপোকাগুলো কি শিউলি ফুল খেয়ে ফেলেছে? আমি কি কাল সকালে ফুল কুড়োতে পারব না? সকাল হলেই আমার সব উৎকণ্ঠার অবসান। দাদুর পুজোর ঝুড়ি ভরে গেল শিউলিতে। এরপর আমরা চারজন — দাদু, দিদি, টুম্পাদি আর আমি — একসাথে শিবানন্দ মঠে টুকটুক করে হেঁটে। ১০০ মিটার পথ তখন আমার মনে হত কত্তটা!
শিবানন্দ মঠে আমরা প্রতিদিনই যেতাম কিন্তু পুজোর দিনগুলো ছিল অন্যরকম। অনেক মানুষ, ত্রিপল আর শামিয়ানা ঘেরা লন... আমার বসার জায়গাটাও বেদখল। ছোটদের একটা অধিকারবোধ থাকে সব কিছুর ওপর। আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। সন্ধ্যাবেলা আরতির সময় যখন "খণ্ডন ভব বন্ধন" হত — যা আমি তখন কিছুই বুঝতাম না — তখন আমি চুপ করে বসে থাকতাম পেছনের দিকে কার্পেটের এক কোণে। কিন্তু পুজোর দিনগুলোতে সেই কোণ তখন জবরদখল। সবচেয়ে বেশি ভিড় হত অষ্টমীর দিন, সকালের কুমারী পুজোতে। অত ভিড় ভালো লাগতো না কিন্তু বাড়ির সবাই ওখানে আর আমি একা কি করব!
ডাকের সাজের সাথে আমার প্রথম পরিচয় শেঠপুকুরের পার্কের পুজোতে। এখন যেখানে বারাসতে নতুন রবীন্দ্র ভবন হয়েছে, সেখানেই পুজো হত সাউথ শেঠপুকুর সার্বজনীনের। সকাল যদি কাটে মঠে তবে দুপুর থেকে পার্কের পুজো। একদম আমাদের বাড়ির উল্টোদিকে হওয়াতে আমার আনন্দ বড্ড বেশি। মন খারাপ হয়ে যেত একটাই কারণে — মা দুর্গার মুখটা আমাদের বাড়ি থেকে দেখা যেত না। জানলা থেকে আমি শুধু কার্তিক দেখতে পেতাম। এমনটা হত প্রতিবছর। এখন শুনেছি এই পুজোর বহর কমে গেছে। প্রতিপত্তি বেড়েছে পাশের মাঠের পুজো — শেঠপুকুর অ্যাথলেটিক্স ক্লাব। কোথাও যেন একটা ছদ্ম প্রতিযোগিতা থাকতো এই দুই পুজোর। তখন কেউ তো আর প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় ট্রফি দিত না!
এরকমই একবার পুজোর কথা।
১৯৮৯।
শিউলি ফুল পড়ে আছে অজস্র, কেউ তুলছে না। আমাকেও বারণ করা।
ষষ্ঠীর দিন সকালে মা বলল কুড়িয়ে আনতে। শুধু সেদিন আর মঠে গেলাম না।
দাদুর ছবির সামনে রাখলাম এক ঝুড়ি। দাদুর শ্রাদ্ধ সেদিন। ২৪-শে সেপ্টেম্বর দাদু চলে গেল যখন চিরকালের মত, শিউলিগুলো তখনও ঝরে পড়ছে টুপটাপ।
শুধু আমার আর কোনদিন শিউলি ফুল নিয়ে মঠে যাওয়া হল না।
— অনেক, দাদু। দিদির থেকে বেশি, টুম্পাদির থেকেও বেশি।
— শুঁয়োপোকা উঠেছিল হাতে?
— না। তবে কয়েকটা আমি মেরেছি পা দিয়ে।
আমাদের শেঠপুকুরের বাড়িতে একটা বড় গাছ ছিল শিউলি ফুলের। পুজোর আগে দুর্গাপুর থেকে এসে আমার প্রথমেই মনে হত শুঁয়োপোকাগুলো কি শিউলি ফুল খেয়ে ফেলেছে? আমি কি কাল সকালে ফুল কুড়োতে পারব না? সকাল হলেই আমার সব উৎকণ্ঠার অবসান। দাদুর পুজোর ঝুড়ি ভরে গেল শিউলিতে। এরপর আমরা চারজন — দাদু, দিদি, টুম্পাদি আর আমি — একসাথে শিবানন্দ মঠে টুকটুক করে হেঁটে। ১০০ মিটার পথ তখন আমার মনে হত কত্তটা!
শিবানন্দ মঠে আমরা প্রতিদিনই যেতাম কিন্তু পুজোর দিনগুলো ছিল অন্যরকম। অনেক মানুষ, ত্রিপল আর শামিয়ানা ঘেরা লন... আমার বসার জায়গাটাও বেদখল। ছোটদের একটা অধিকারবোধ থাকে সব কিছুর ওপর। আমিও তার ব্যতিক্রম ছিলাম না। সন্ধ্যাবেলা আরতির সময় যখন "খণ্ডন ভব বন্ধন" হত — যা আমি তখন কিছুই বুঝতাম না — তখন আমি চুপ করে বসে থাকতাম পেছনের দিকে কার্পেটের এক কোণে। কিন্তু পুজোর দিনগুলোতে সেই কোণ তখন জবরদখল। সবচেয়ে বেশি ভিড় হত অষ্টমীর দিন, সকালের কুমারী পুজোতে। অত ভিড় ভালো লাগতো না কিন্তু বাড়ির সবাই ওখানে আর আমি একা কি করব!
ডাকের সাজের সাথে আমার প্রথম পরিচয় শেঠপুকুরের পার্কের পুজোতে। এখন যেখানে বারাসতে নতুন রবীন্দ্র ভবন হয়েছে, সেখানেই পুজো হত সাউথ শেঠপুকুর সার্বজনীনের। সকাল যদি কাটে মঠে তবে দুপুর থেকে পার্কের পুজো। একদম আমাদের বাড়ির উল্টোদিকে হওয়াতে আমার আনন্দ বড্ড বেশি। মন খারাপ হয়ে যেত একটাই কারণে — মা দুর্গার মুখটা আমাদের বাড়ি থেকে দেখা যেত না। জানলা থেকে আমি শুধু কার্তিক দেখতে পেতাম। এমনটা হত প্রতিবছর। এখন শুনেছি এই পুজোর বহর কমে গেছে। প্রতিপত্তি বেড়েছে পাশের মাঠের পুজো — শেঠপুকুর অ্যাথলেটিক্স ক্লাব। কোথাও যেন একটা ছদ্ম প্রতিযোগিতা থাকতো এই দুই পুজোর। তখন কেউ তো আর প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় ট্রফি দিত না!
এরকমই একবার পুজোর কথা।
১৯৮৯।
শিউলি ফুল পড়ে আছে অজস্র, কেউ তুলছে না। আমাকেও বারণ করা।
ষষ্ঠীর দিন সকালে মা বলল কুড়িয়ে আনতে। শুধু সেদিন আর মঠে গেলাম না।
দাদুর ছবির সামনে রাখলাম এক ঝুড়ি। দাদুর শ্রাদ্ধ সেদিন। ২৪-শে সেপ্টেম্বর দাদু চলে গেল যখন চিরকালের মত, শিউলিগুলো তখনও ঝরে পড়ছে টুপটাপ।
শুধু আমার আর কোনদিন শিউলি ফুল নিয়ে মঠে যাওয়া হল না।
No comments:
Post a Comment